ll

নতুন শিক্ষাক্রম: মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আসছে পরিবর্তন, থাকতে পারে ৫০ শতাংশ লিখিত পরীক্ষা

 

নতুন শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা রাখাসহ পাঁচ দফা সুপারিশ প্রস্তুত করেছে শিক্ষা


মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে— লিখিত মূল্যায়নের ওয়েটেজ ৫০ শতাংশ আর কার্যক্রমভিত্তিক মূল্যায়নের ওয়েটেজ ৫০ শতাংশ রাখা। 

গত সোমবার (২২ এপ্রিল) কমিটি মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) একটি বৈঠক করে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান। 

গত ৫ মার্চ গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোহাম্মদ খালেদ রহীমকে আহ্বায়ক করে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

লিখিত পরীক্ষার বিষয়ে কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, মূল্যায়ন পদ্ধতিতে যোগ্যতা ও কার্যক্রম ভিত্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি লিখিত (পরীক্ষা) মূল্যায়ন রাখা যেতে পারে। এ ছাড়া মূল্যায়নে আন্তঃসম্পর্ক বজায় রেখে লিখিত মূল্যায়নের ওয়েটেজ ৫০ শতাংশ এবং কার্যক্রমভিত্তিক মূল্যায়নের ওয়েটেজ ৫০ শতাংশ রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুল ভিত্তিক ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক মূল্যায়ন এবং পাবলিক মূল্যায়নে একই পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। 

এ ছাড়া মূল্যায়ন অ্যাপ নৈপুণ্য হালনাগাদ করা, চূড়ান্ত মূল্যায়নে সনদ/ট্রান্সক্রিপ্টের ৭ পর্যায়ের স্কেলে যোগ্যতা ও পারদর্শিতার সূচক অভিভাবক ও অংশজনদের অবহিত করারও সুপারিশ করেছে কমিটি। 

নতুন শিক্ষাক্রমে বর্তমানে দুই পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়। এর একটি বছরজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিখনকালীন মূল্যায়ন, অন্যটি বছর শেষে সামষ্টিক মূল্যায়ন। শিক্ষাক্রমের রূপরেখা অনুযায়ী, প্রাক্–প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা নেই। এ তিন শ্রেণিতে হবে শতভাগ শিখনকালীন মূল্যায়ন। আর চতুর্থ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচটি বিষয়ে কিছু অংশের মূল্যায়ন হবে শিখনকালীন। বাকি অংশের মূল্যায়ন হবে সামষ্টিকভাবে। 

নতুন শিক্ষাক্রমের এই মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে অভিভাবক–শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট দিনে কোনো লিখিত পরীক্ষা না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হচ্ছে না। 

নতুন শিক্ষাক্রমে একজন শিক্ষার্থীর অগ্রগতি বোঝাতে নম্বর কিংবা গ্রেডের পরিবর্তে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও বৃত্ত ব্যবহার করা হবে। ত্রিভুজ হচ্ছে সবচেয়ে দক্ষ বা ভালো, বৃত্ত হচ্ছে মোটামুটি ভালো এবং চতুর্ভুজ মানে উন্নতি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে একাধিক অভিভাবক বলেন, মূল্যায়নে ত্রিভুজ, বৃত্ত, চতুর্ভুজ ইত্যাদি নির্দেশক বা ইন্ডিকেটর বাতিল করা উচিত। একই সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট দিনে নম্বরভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দাবি তাঁদের। যাতে পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হয়। 


শিক্ষাবিদ–অভিভাবকসহ বিভিন্ন মহলের উদ্বেগ, অসন্তোষ এবং লিখিত পরীক্ষা যুক্ত করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই নতুন শিক্ষাক্রমের মূল্যায়নপদ্ধতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন মহিবুল হাসান চৌধুরী। গত ১৪ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাবর্ষ মাত্র শুরু হয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যায়নের কাজগুলোও শুরু হয়েছে। কাজ করতে গিয়ে যদি কোনো সমস্যা মনে হয়, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই আসবে।’ 

জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এনসিটিবি এবং শিক্ষা কারিকুলামের সঙ্গে যুক্ত কর্তৃপক্ষ ও ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি মূল্যায়নপদ্ধতির বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে চান। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে জন-অসন্তোষ নিরসনে তা যাচাই–বাছাইয়ের পরামর্শ দেন। এরপরই ৪ ফেব্রুয়ারি মূল্যায়নপদ্ধতি ও কারিকুলাম নিয়ে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট সমন্বয় কমিটি গঠনের কথা জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মোহাম্মদ খালেদ রহীমকে। কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন এনসিটিবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রতিনিধিরা।


জাতীয়করণ আন্দোলনের শিক্ষক নেতা শেখ কাওছার আলীর বরখাস্ত অনুমোদন

 জাতীয়করণের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষক মো. কাওছার আলী শেখকে চূড়ান্ত বরখাস্তের অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর সবুজ বিদ্যাপীঠ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক। 

সম্প্রতি বোর্ড সভায় কাওছার আলী শেখের চূড়ান্ত বরখাস্তকরণের বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তটি অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ২১ এপ্রিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর আজাদ হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে পাঠানো হয়

চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যাল

                               

য়ের প্রধান শিক্ষক (বরখাস্তকৃত) কাওছার আলী শেখের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক আনীত অভিযোগ- সাহিদা পারভীনকে এমপিওভুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে দাবিকৃত ছয় লাখ টাকার মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা নগদ আত্মসাৎ; ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে করোনা অতিমারীর সময় শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের এক লাখ ৯৮ হাজার টাকা নগদ আত্মসাৎ; ‘জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোং’ ফার্মের অডিটে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনে ব্যর্থ; আয়ের খাতে এক কোটি ৪২ লাখ সাত হাজার ৪৮৯ টাকা নগদ অসংগতি; ব্যয়ের খাতে এক কোটি ৪৩ লাখ ৪৭ হাজার ২৫০ টাকা অসংগতি; ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে জাল সনদ ও খাতা টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে নিজ আত্মীয় হোসেন শেখকে নিয়োগ দেওয়া; নতুন কারিকুলামের ব্যাপারে অসহযোগিতা; বিদ্যালয়ে সময় না দিয়ে ব্যবসায় ও শিক্ষক রাজনীতিতে সরব অংশগ্রহণ; বিধিবহির্ভূতভাবে অধ্যক্ষ পদবি ব্যবহার; রেজুলেশন বহি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি নিজ জিম্মায় রাখা।

চিঠিতে বলা হয়, গত ২৮ মার্চ শিক্ষা বোর্ডের আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশন কমিটির সভায় বাদী ও বিবাদী উভয়ের উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ এবং অভিযোগসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণপূর্বক ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক চূড়ান্ত বরখাস্তের বিষয়টি প্রমাণিত হয় বিধায় তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।

গত বছরের নভেম্বরে কাওছার আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ২৩০তম বোর্ড সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (বরখাস্তকৃত) মো. কাওছার আলী শেখের চূড়ান্ত বরখাস্তকরণের বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তটি অনুমোদন দেওয়া হয়।



তাড়াশের লোকালয়ে কালোমুখো হনুমান

 সিরাজগঞ্জের তাড়াশে লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সাদার রঙের কালোমুখী হনুমান। হনুমানটি তাড়াশ পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় বাসাবাড়ি, গাছপালা, দোকানে দোকানে ঘুরছে

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) থেকে বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল পর্যন্ত তাড়াশ পৌর বাজার ও কোহিত মহল্লায় হনুমানটির দেখা পাওয়া যায়।  

স্থানীয়রা জানান, হনুমানটির গায়ের রং সাদা হলেও মুখটি কালো। এটিকে দেখতে শিশু, কিশোর ও নারী-পুরুষরা পেছন পেছন ছুটছেন। এলাকাবাসী কলা-রুটি ছুড়ে দিলে হনুমানটি সেগুলো খাচ্ছে। মাঝে মধ্যে শিশুদের ঢিলে অতিষ্ঠ হয়ে হনুমানটি গাছের ডালে ডালে, কখনও বাড়ির চালে লাফিয়ে চলে যাচ্ছে।

উপজেলার পৌর এলাকার বাসিন্দা মৃণাল সরকার মিলু বলেন, হনুমানটি আমার বাড়ির ছাদে ছিল। কিন্তু অতি উৎসাহী লোকজন হনুমানটির দৃষ্টি আকর্ষণে অবিরত চেষ্টায় প্রাণীটি স্থির থাকতে পারছে না। আবার সেলফি তোলার হিড়িকে সারাদিন এ বাড়ি ও গাছে দৌড়ে চলার কারণে হনুমানটি ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।

তাড়াশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রজত ঘোষ বলেন, আমার বাড়ির ছাদে ও দোকানে ছিল কিছুক্ষণ। খাবারও খেয়েছে। কিন্তু লোকজন বিরক্ত করায় চলে গেছে।

তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবু হাশিম খোকন বলেন, এই প্রাণীটির রাত ছাড়া গাছে ওঠার অভ্যাস নেই। কিন্তু কেউ ঢিল ছুঁড়লে বাধ্য হয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ির চাল ও গাছের ডালে উঠে পড়ে।

তাড়াশ উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, খবরটি আমি পেয়েছি। ধারণা করা হচ্ছে, দেশের বনাঞ্চল থেকে খাদ্যে সন্ধানে মূলত হনুমানটি হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে চলাচলরত কোনো ট্রাকের ছাদে করে হনুমানটি এ এলাকায় আসতে পারে। তবে হনুমানটিকে বিরক্ত না করলে, সে চলে যাবে।

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ আগের নিয়মেই

  শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত থাকলেও আপাতত আগের নিয়মেই চলবে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সূত্রে ...